রেলে নতুন দিগন্ত: শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর বিদ্যুতায়ন প্রকল্প

বাংলাদেশ রেলওয়েতে শুরু হতে যাচ্ছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রথমবারের মতো ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের বদলে বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশ। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর জন্য ৪২.৮৩ বিলিয়ন (৪ হাজার ২৮৩ কোটি) টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ৫২.৩২ কিলোমিটার রুটকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ১৮৬ ট্র্যাক-কিলোমিটার ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম (বিদ্যুতের তার ও খুঁটি) স্থাপন করা হবে। এছাড়া কেনা হবে ১৬টি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (EMU) ট্রেন। ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক কারখানা এবং দুটি ট্র্যাকশন সাবস্টেশনসহ একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

এই বিশাল প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (EIB)। সংস্থা দুটি যৌথভাবে প্রায় ২৮.৩১ বিলিয়ন টাকা ঋণ দেবে। বাকি ১৪.৫২ বিলিয়ন টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময় আরও কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে।

বিদ্যুতায়ন চালু হলে নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে ট্রেন চলাচলের সময় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে আসবে। এছাড়া ট্রেনের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে। শব্দ ও বায়ু দূষণ মুক্ত হওয়ার ফলে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর অঞ্চলের পরিবেশে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু। প্রথম ধাপে নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুট সফল হলে পরবর্তী ধাপে টঙ্গী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্প নথিতে আশা করা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই রুট থেকে বছরে প্রায় ৮.৪৯ বিলিয়ন টাকা আয় করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের আধুনিকায়নের ইতিহাসে এই প্রকল্পটিকে সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।