ভারত থেকে আসছে ১৯ রেল কোচ, হস্তান্তরের প্রস্তুত ‍

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ভারত থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এলএইচবি প্রযুক্তির প্রথম ১৯টি কোচ হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাদে যাত্রী ওঠার কারণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলেও তা সহ্য করতে পারে—এমনভাবে তৈরি এসব কোচ। 

পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) কোচগুলো ২০২৪ সালে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিস (রাইটস)-কে দেওয়া ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের অর্ডারের অংশ। সাতটি ভিন্ন ধরনের কোচের জন্য এই অর্ডার দেওয়া হয়েছিল।

ভারতের রেল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোচগুলোতে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বেশ কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসি কোচে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ। বাংলাদেশে কোচ পরিচালনার বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ছাদের কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে ব্যস্ত সময়ে ছাদে যাত্রী ওঠার কারণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলেও তা সহ্য করতে পারে।

দেশটির রেল মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ (বিজি) যাত্রীবাহী কোচ ১২ আগস্ট কাপুরথালার আরসিএফ থেকে ছাড়ার কথা রয়েছে।

এলএইচবি কোচ উচ্চতর নিরাপত্তাব্যবস্থা, কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং উন্নত পরিচালন দক্ষতার জন্য পরিচিত।

১৯টি কোচের এই রেকে থাকবে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার। কোচগুলোতে বেশ কিছু নতুন নকশা ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ব্যবস্থা এলএইচবি ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে।

ভারতের রেল মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও এর যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কোচগুলো বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গাসহ হেলানো যায় এমন সিট রয়েছে। যাত্রীরা আরও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য সিটগুলো বিভিন্ন কোণে হেলিয়ে নিতে পারবেন। 

দেশটির রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কোচগুলোতে ইউরোপীয় মান ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সক্ষম নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাড়াতে কোচের বডি শেলের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে এটি আঘাতের চাপ আরও ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। 

কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের কোচে প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে এসব কোচ ৪১৫ ভোল্টে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ 

গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করবে বাংলাদেশ। তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০০টি বিজি কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা হবে। 

এর আগে রাইটস লিমিটেড বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি বিজি এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ, ৩৬টি বিজি লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি রেল অবকাঠামো প্রকল্পেও কাজ করেছে। 

২০২৬ সালের মে মাসে রাইটসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিএমডি) রাহুল মিথাল জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোচ সরবরাহের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম রেক সরবরাহের পর চলতি অর্থবছরে অন্তত তিন থেকে চারটি রেক সরবরাহ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

AHA
আরও পড়ুন