বিরল নয়, দেশের নানা খামারে পালন হচ্ছে অ্যালবিনো মহিষ

এবারের কোরবানির ঈদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি গোলাপি বা অ্যালবিনো মহিষ, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের চুলের আদলের সঙ্গে মিল থাকায় নারায়ণগঞ্জের ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের’ এই মহিষটি দেশ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নেয়। তবে এই মহিষটিকে ‘অত্যন্ত বিরল’ হিসেবে প্রচার করা নিয়ে এখন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও খামারিদের মধ্যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া থেকে মহিষটি কিনেছিলেন কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান। লালগালিচা সংবর্ধনা ও ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে রাজকীয় আয়োজনে মহিষটিকে বিদায় জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত এটি কোরবানি দেওয়া হয়নি। দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে মহিষটিকে বর্তমানে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ঈদের দিন চিড়িয়াখানার অন্যান্য পশুর চেয়ে এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটি দেখতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রতি ১০ হাজার মহিষে মাত্র একটি এমন অ্যালবিনো মহিষ জন্মায়। একে জীববৈচিত্র্যের এক ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই দাবিকে পুরোপুরি মানতে নারাজ মাঠ পর্যায়ের খামারিরা। তাদের মতে, অ্যালবিনো বা গোলাপি মহিষ বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। সাভারের ‘কাইয়ুম অ্যাগ্রো’ খামারে বর্তমানে প্রায় অর্ধশত এমন গোলাপি মহিষ রয়েছে। খামারি আব্দুল কাইয়ুম জানান, তিনি গত নয় বছর ধরে শখের বসে এই জাতের মহিষ পালন করছেন এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, অ্যালবিনো কোনো আলাদা প্রজাতি নয়, এটি একটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য। শরীরে মেলানিন কম থাকলে গায়ের রঙ এমন সাদা বা গোলাপি হয়। এটি ব্যতিক্রমী হলেও বাংলাদেশে এর আগেও দেখা গেছে। মূলত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার মহিষটিকে অনন্য করে তুলেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে মহিষের মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কম চর্বি ও বেশি প্রোটিন থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা এখন গরুর বিকল্প হিসেবে মহিষের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া মহিষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালন-পালন খরচ গরুর তুলনায় কম হওয়ায় খামারিদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। এবারের কোরবানির বাজারে প্রায় দেড় লাখ মহিষ প্রস্তুত ছিল বলে জানা গেছে।