জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুধু নামের বানান ভুল নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নামে একটি প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে তা ভুলভাবে উপস্থাপনের ঘটনায় প্রশাসনিক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে এলডিটিআর পদে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সমমান) ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যদিও প্রজ্ঞাপনে বদলির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, সেখানে বলা হয়েছে জনস্বার্থে এ রদবদল কার্যকর করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর হাটে আলোচনায় আসে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের বিরল অ্যালবিনো মহিষটি। গোলাপি-সাদা বর্ণের এই প্রাণীটির ব্যতিক্রমধর্মী শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে প্রাণীটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
তবে চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর বানান ভুল করে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হলে সেটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ফলক সংশোধন করা হয়। পরে প্রাণীটির নাম পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন শুরু থেকেই বিতর্কের বিষয় ছিল। পরে সেই নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন এবং বানানগত ভুল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার এবং তা ভুলভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি বদলির সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।