রাজধানীর তীব্র গরমে জাতীয় চিড়িয়াখানার সবচেয়ে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে স্বস্তি দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খাঁচার ভেতরে সার্বক্ষণিক দুটি শক্তিশালী স্ট্যান্ড ফ্যান চালু রাখা হয়েছে, পাশাপাশি দিনে কয়েকবার গোসল করানো ও শরীরে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৩১ মে) মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, গোলাপি রঙের বিরল বৈশিষ্ট্যের এই মহিষটি রোদ এড়িয়ে টিনের ছাউনির নিচে অবস্থান করছে। তার পাশে রাখা হয়েছে বড় পানির ট্যাংক এবং দুটি সচল ফ্যান।
পবিত্র ঈদুল আজহায় চিড়িয়াখানায় আনার পর থেকেই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ মহিষটিকে দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করছেন। অনেক দর্শনার্থী প্রবেশের পর প্রথমেই জানতে চাইছেন, ‘ট্রাম্প মহিষ কোথায় রাখা হয়েছে?’
চিড়িয়াখানার এল-০৭ নম্বর খাঁচার সামনে গিয়ে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। দর্শনার্থীরা ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং মহিষটির অস্বাভাবিক গোলাপি রঙ ও মাথার লোম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা মুহিন উদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখেই সরাসরি দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তাই বন্ধুদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন।
দক্ষিণখান থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী জুবায়েরের ভাষ্য, গোলাপি মহিষ আগে দেখলেও এই মহিষটির মাথার লোমের কারণে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ পরিচর্যার আওতায় থাকা এই মহিষটি প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি নেপিয়ার ঘাস এবং ৫ কেজি ছোলা ও গমের ভুসি খায়। গরমের কারণে তার পানির চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে দিনে প্রায় ২০ লিটার পানি পান করছে প্রাণীটি।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনেই এক লাখের বেশি দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন। তীব্র গরমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রাণীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্যও বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোরবানির পশুর হাটে আলোচনায় আসা অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যের এই মহিষটিকে সরকার সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করে। পরে এটি চিড়িয়াখানার অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণে পরিণত হয়।