নবম পে-স্কেল

আশা-নিরাশার দোলাচালে সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশা-নিরাশার দোলাচল আরও তীব্র হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রের। কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-कर्मचारी কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অথচ নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, আগামী ১১ জুনের বাজেটে তাদের এই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর অধীনে আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন, পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সরকারের এই ধীরগতির বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, গত ১১ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।

এই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এরপর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেদিনের বাজেটেই স্পষ্ট হবে সরকারি কর্মচারীদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রকৃত অবস্থান কী।