নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির নিয়মে আসছে পরিবর্তন

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চিন্তা করছে সরকার। আসন্ন নবম জাতীয় বেতনকাঠামোয় বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গ্রেডের পাশাপাশি এখন থেকে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্তরভেদে কর্মচারীদের বাস্তব চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব গ্রেডে সমান হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন নিয়মের কারণে আসন্ন পে-স্কেলে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডের (৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলার ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়মে সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়ায় গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে:

  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫% রাখার প্রস্তাব।
  • ৫ম গ্রেড: বেতন বৃদ্ধির হার ৪%।
  • ৩য় ও ৪র্থ গ্রেড: বেতন বৃদ্ধির হার ৩.৫%।
  • ২য় গ্রেড: বেতন বৃদ্ধির হার ২.৭৫%।
  • ১ম গ্রেড: এই গ্রেডের বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হবে আলাদাভাবে।

বেতন বৃদ্ধির নিয়মে এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে সরকারের একটি বিস্তৃত জরিপ। ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এই জরিপে অংশ নেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৫.৬ শতাংশ চলমান পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। বিপরীতে ৫০.৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে এবং ৩১.৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যায়ের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। এছাড়া ৭৯.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

নতুন পে-স্কেল প্রণয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।


নতুন বেতনকাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে:

বেতন কমিশনের সুপারিশ: ১ম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব (অনুপাত ১:৮)।

সচিব কমিটির ভাবনা: ১ম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনও কিছুটা কমিয়ে অনুপাত ১:৭.৫ করার প্রস্তাব। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

SN
আরও পড়ুন