আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে শান্তিরক্ষা মিশনে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদদের আত্মদান বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের গৌরবময় ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫,৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে নিয়োজিত আছেন এবং হাইতিতে একটি নতুন মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শান্তিরক্ষা মিশনে পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বিশ্বমঞ্চে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে বাহিনীকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত এই দেশে এখন সবারই যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমকালীন বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তন নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে পর্যায়ক্রমিকভাবে আধুনিকায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবসময় শান্তি ও মানবতার পক্ষে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন।