অনন্য অবদানের ৩৮ বছর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন হচ্ছে আজ

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হচ্ছে আজ। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী বীর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এবং তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সারাবিশ্বে প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হলেও, এবার পবিত্র ঈদের ছুটি থাকায় বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

দিবসটির মূল অনুষ্ঠান আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শান্তি রক্ষা মিশনে শহীদ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারবর্গের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও মানবিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষীদের সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং আত্মোৎসর্গকারী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ এক গর্বিত ও শীর্ষস্থানীয় অংশীদার। ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই গৌরবময় পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সাল থেকে নৌ ও বিমানবাহিনী এবং ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশ এই মিশনে যুক্ত হয়। বিগত ৩৮ বছরে বাংলাদেশের ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এসব মিশনে এ পর্যন্ত ৩,৬৪৫ জন নারী সদস্যসহ মোট ২,০৬,৪৭৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৯টি মিশনে ৪,৪১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে বিশ্বশান্তির এই মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন বীর শান্তিরক্ষী শাহাদাতবরণ করেছেন এবং ২৮৭ জন আহত হয়েছেন। শহীদদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর ৪ জন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

SN
আরও পড়ুন