প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজন হলে ভারত সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই; যখন আমরা মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমাদের যাওয়া প্রয়োজন।”
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলোতে সফরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন আমরা যাব। যখন চীন যাওয়া দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাবো, মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশ বা বাইরের কোনো বয়ানের দ্বারা প্রভাবিত নয়। কেউই আমাদের বলে দেবে না কখন বা কোথায় যেতে হবে। বাংলাদেশ এখন সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছে।
মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফর পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং তা সফল হবে। মালয়েশিয়া সফরে আসিয়ান সদস্যপদ ও শ্রমবাজার প্রসঙ্গে আলোচনা হবে। অন্যদিকে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার।
বিদেশ সফরের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়, যাতে জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়। এগুলো অপচয়মূলক সফর নয়, বরং মূল্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার, যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।