মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তারেক রহমান চীনে পৌঁছেছেন। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান-এর ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ চীনের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এর আগে মালয়েশিয়ায় সরকারি সফর শেষে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সের বিশেষ ভিআইপি টার্মিনালে তাঁকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী।
দালিয়ানে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ডব্লিউইএফের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন বেইজিং-এ, যেখানে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, নীতিগত সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হবে।
চীন সফরের আগে মালয়েশিয়ায় আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তারেক রহমান। প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সীমিত ও সম্প্রসারিত পরিসরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং বিভিন্ন সহযোগিতামূলক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।