উচ্চ আদালতে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আবারও ঋণখেলাপি ইস্যুতে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান।
নাজিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে সংসদে একজন সদস্য জানতে চেয়েছিলেন, সংসদে কোনো ঋণখেলাপি আছেন কি না। তখন স্পিকার বিচারাধীন বিষয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু এখন উচ্চ আদালত ঋণখেলাপির দায়ে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন। তাই এখন ওই ব্যক্তিকে ঋণখেলাপি বলা যাবে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। তিনি জানান, কোনো ব্যক্তির সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত আদেশ জারি করলে সংসদকে তা জানানো হবে। তাই নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিয়ে বলেন, এর আগে সংসদে বলা হয়েছিল, বর্তমান সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই; কেউ ঋণগ্রস্ত থাকতে পারেন, কিন্তু ঋণখেলাপি নন। তিনি আরও বলেন, আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তার প্রার্থিতা আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছিল এবং উচ্চ আদালত সে বিষয়ে রায় দিয়েছেন। ফলে তিনি সংসদ সদস্য নন এবং বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায়ও পড়ে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব সভাপতির। তবে আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা সঠিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলেও আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে ৩০ জুন রায় ঘোষণা করে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।