ত্রিশালে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর

ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সিটি’ হিসেবে ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় কবি এই ভূখণ্ডে জন্ম না নিলেও তাঁর হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষও তাঁকে চিরকাল হৃদয়ে ধারণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান দিশারী হলেন কবি নজরুল। এ দেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিই ছিল মূল প্রতিপাদ্য। শুধু অতীত বা বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

প্রযুক্তির এই বর্তমান বাস্তবতায় নজরুলের ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’ কিংবা ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’- এই ধরনের সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে সব সময় আশার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নজরুল বর্ষের মতো এমন একটি বড় আয়োজনের আমন্ত্রণপত্রে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) পাশাপাশি নজরুল সংশ্লিষ্ট গুণীজনদের নাম থাকা উচিত ছিল।

সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অপশক্তি সব সময় বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকাই চিরায়ত বাঙালির মূল চরিত্র। বর্তমান সরকার শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, দেশের কোনো প্রাণীও যেন হিংস্রতার শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে চায়। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে এক বছরের জন্য ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন (রবিবার) সরকার এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।