জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টন তেল আমদানি করা হবে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে।

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড' এই জ্বালানি সরবরাহ করবে। এ জন্য সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই ক্রয় প্রস্তাব ইতোমধ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ (ইন্ডেন্ট) ইস্যু করা হয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং কোনো ঘাটতি নেই। শিল্পোৎপাদন, কৃষিকাজ এবং আকাশপথের যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডলার সংকটের মধ্যেও এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহ চেইনে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও জাহাজ ভাড়া ব্যাপক বেড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটে দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহারের কারণে পরিচালন ব্যয় ও যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে, যেখানে গত ২ এপ্রিল ডিজেলের দর রেকর্ড প্রতি ব্যারেল ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌঁছায়।

এই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত দরটিকে যৌক্তিক মনে করছে বিপিসি। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।