প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরে বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রেলের বর্তমান সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও কোচের (ক্যারেজ) ঘাটতি কাটাতে এবং যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রডগেজ লাইনের বিদ্যমান সংকট দূর করতে ভারত থেকে প্রায় ২০০টি ব্রডগেজ কোচ ও লোকোমোটিভ আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে মিটারগেজ অঞ্চলে এখনও বড় চাপ থাকায় আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন রেলপথ চালুর সাথে সাথেই যাতে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যায়, সেজন্য নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গেই লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।

রেলওয়ের নতুন প্রকল্প ও রুট সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নতুন রেললাইন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ড লাইনের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এছাড়া ঢাকার আশপাশের জেলা যেমন- গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ভাঙ্গার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে রেলের আধুনিকায়ন ও সুরক্ষায় বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়:

বেসরকারি অংশীদারিত্ব: অকেজো ডেমু ট্রেনগুলো সরকারিভাবে মেরামতের সিদ্ধান্ত বদলে বেসরকারি বিনিয়োগে সচল করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ প্রধান জংশন স্টেশনগুলোর বাণিজ্যিক উন্নয়ন এবং রেলের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিরাপত্তা ও গেজ রূপান্তর: বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় লেভেল ক্রসিং আধুনিকায়ন এবং যানজট কমাতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে পুরো রেল নেটওয়ার্ককে ব্রডগেজে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে।

স্ট্যান্ডিং টিকিট হ্রাস: প্রতিমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হলেও সরকার এই ব্যবস্থাকে সমর্থন করে না। নতুন ইঞ্জিন ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে এই সমস্যা এবং যাত্রী অভিযোগ দুই-ই কমে আসবে।

আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও উন্নত স্টেশন নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

SN
আরও পড়ুন