প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং পরিবর্তিত যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান আইন, বিধি, প্রবিধান ও নীতিমালাকে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের দিকেও এগোবে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক আইন ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুপারিশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
রোববার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ এবং সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও একই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ। এসব পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে দ্রুত সুপারিশ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও প্রচলিত সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইনভিত্তিক সেবা এবং বিস্তৃত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। ফলে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন আধুনিক আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আইন, নীতিমালা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ও বাস্তবতার আলোকে একটি কার্যকর, আধুনিক এবং যুগোপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
সভায় তিনি বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।