আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের নতুন বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।
অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইইপি) চালু, দালাল ও সাব-এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠনের কথাও জানান মন্ত্রী।
সংসদে অপর এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে দাফন ও বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।