বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে থাকা ১৫টি বন্ধ ও অচল বস্ত্রকল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ও বেসরকারি উদ্যোগে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া আরও দুটি বন্ধ মিল দীর্ঘমেয়াদি লিজের মাধ্যমে সচল করার প্রক্রিয়া চলছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিটিএমসির বন্ধ বস্ত্রকলগুলোকে লাভজনকভাবে পুনরায় সচল করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৫টি মিল পিপিপি ও বেসরকারি উদ্যোগে চালুর পাশাপাশি আরও দুটি মিল লিজের মাধ্যমে চালু করার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে মসলিন উদ্যোক্তা, তাঁতি ও স্পিনারদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সেবা দেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে তাঁতিদের নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা এবং স্বল্পমূল্যে ডাইং, প্রিন্টিং ও ক্যালেন্ডারিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।’
বস্ত্র ও পাট খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান—
রপ্তানি প্রণোদনা: পাটজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
ভ্যাট মওকুফ: বর্তমানে পাটপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মওকুফ করা হয়েছে।
শুল্কমুক্ত সুবিধা: বস্ত্র খাতে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় টেক্সটাইল মেশিনারি আমদানির সুপারিশ করছে বস্ত্র অধিদপ্তর।
উন্নত প্রযুক্তি: পাটচাষিদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প চালু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে বস্ত্র ও পাট শিল্পে বিনিয়োগকারীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।