বাংলাদেশে পণ্য পাঠাবে পাকিস্তান, নেবে পাট

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সার ও পাটজাত পণ্যের বাণিজ্য সহজ করতে সরকারি পর্যায়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় পাকিস্তান থেকে খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়বে।

বৈঠকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রতি পাকিস্তানের শিল্প খাতের চাহিদা রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে এবং বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করতে পাকিস্তান প্রস্তুত। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে অংশীদারত্ব জোরদার করা।

বৈঠকে দুই দেশ পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা এবং নিয়মিত বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে দুই দেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার সময়ে খাদ্য ও কৃষিপণ্যের উৎস বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পে নতুন বাজার তৈরি করতে পারে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমবে এবং সরাসরি সরকারি পর্যায়ের বাণিজ্য চ্যানেল চালুর মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ পণ্যের শুল্ক কমানো, মান নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়, দ্রুত পণ্য খালাস এবং নৌ ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো বিষয় নিয়ে কাজ করবে।

দুই দেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন