বৃহস্পতিবার হাজিরের নির্দেশ

৪৫ বছর পলাতক থাকার পর ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি মোজাফফর

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে আইনের মুখোমুখি হচ্ছেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে আগামী ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে মোজাফফর হোসেন মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়েছে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ রাষ্ট্রপক্ষের অন্যান্য আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে সেনা আইনে বিচারও চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্য সহযোগীদের মতো মোজাফফরের বিচারও জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন মোজাফফর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন একদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের শুনানিতে তাকে হাজির করা হবে, অন্যদিকে সেনা আইনে তার বিচার জেনারেল কোর্ট মার্শালে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।