নগরীর যানজট নিরসনে শিগগিরই ওয়াটার বাস চালু

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, নগরীর যানজট নিরসন ও নৌপথ জনপ্রিয় করতে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

নৌমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর ধরে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু ছিল এবং সেই ওয়াটার বাস গত ১০ বছরে ক্ষতি করেছে ৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রত্যেক বছর ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। এখন নতুন করে বিআইডব্লিউটিএ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস আবার পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নৌপথের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে এই মুহূর্তে ড্রেজিং করে সচল রাখা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের মতো। ড্রেজিং চলমান রয়েছে নৌপথ সচল রাখার জন্য। সংরক্ষিত ড্রেজিং সব সময়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে বাস্তবায়ন করা হয়। যেখানে নৌপথের নাব্য রক্ষা করা দরকার, নৌচলাচল রুট যেখানে সচল আছে, তা ড্রেজিং করে নিয়মিতভাবেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার চারপাশে যে নদী, সেখানে দূষণ আছে এবং সেই দূষণ কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে, তা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কেমিক্যাল বর্জ্য আছে, লিকুইড বর্জ্য আছে, সলিড বর্জ্য আছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঢাকার এই চারপাশে যে পাঁচটি নদী, তা দূষণমুক্ত করার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং গতকাল এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত মিটিং হয়েছে, কমিটি করা হয়েছে, এই পাঁচটি নদী পরিদর্শন করা হয়েছে।

নৌমন্ত্রী বলেন, এই দূষণমুক্ত করার জন্য ওয়াসা, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়- সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যে কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে আগামীতে নদীগুলোর পাড় সংরক্ষণ এগুলোও এই বিষয়ের মধ্যে আমলে আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেজন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।