ওসি পরিচয়ে ভাইরাল হওয়া অডিওতে যা শোনা গেলো

ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের নির্দেশে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে ডিবিরও একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, ছড়িয়ে পড়া অডিওটির বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে এ ধরনের অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে হয়।

গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি পরিচয় দেওয়া একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি। অডিওতে ঐ ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’

অডিওতে ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, ... নিয়ে থাকবা, আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’ মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ঐ অডিওতে। অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পেস্টিং পাইতেছে তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পেস্টিং হইতেছে।’

ঐ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অডিওর বক্তা বলেন, তার লজ্জা থাকা উচিত। তার চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ১০০ কোটি টাকা এমনিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওসি পদায়ন নিয়ে অডিওতে ঐ ব্যক্তিকে আরো বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কমিশনার যারা ছিল, তারা ওসি পেস্টিংয়ে টাকা নেয় নাই। যত ওসি বেনজীরের আমলে ছিল, টাকায় কোনো সময় বদলি হয় নাই।’ এখানে তিনি সাবেক আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। অডিওতে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরো বলতে শোনা যায়, ‘ডিএমপি, ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী, ক্যাপিটাল সিটি। এখানকার ওসিরা টাকা দিতে যাবে কেন? এখানে ওসিরা এমনিই যাবে। তোমাদের কাজ করে নিয়ে তোমরা টাকা উঠিয়ে নিবা।’

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কীভাবে কাজ করে দিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতার বিষয়ে ওসি রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভাটারায় একটা কাজ করে দিছি এক স্যারকে। স্যার ১ কোটি টাকা নিছে। আমি তো জানতাম না।... (অস্পষ্ট কথা) আমার সঙ্গে শুধু সম্পর্কটা আছে। এই হলো অবস্থা! এইভাবে চাকরি করা যাবে নাকি? অযোগ্য লোকগুলোরে কোন জায়গা  ঢোকায় (পদায়ন দেয়) আর যোগ্য লোকগুলোকে চিপা-চাপায় রাখছে।’