অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই খুন হন শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন: ডিবি প্রধান

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং এলাকার আধিপত্য বিস্তার কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিটনকে হত্যার পেছনে মূলত এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডে যারাই জড়িত থাক না কেন, দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে কিছু সন্ত্রাসী দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আমরা ইন্টারপোলের সহায়তা নেব।’

পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন ছিলেন। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট ও শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের সামনের রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ টিটন রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে খুনিরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তার বড় ভাই সাঈদ আক্তার রিপন। মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ না করে ৮ থেকে ৯ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

FJ
আরও পড়ুন