সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ফাঁস ও দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে তার এমপি পদের ভবিষ্যৎ।
গত ২২ জুলাই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানায়। তবে সংবিধান অনুযায়ী কেবল দল থেকে বহিষ্কার করলেই কারও সংসদ সদস্য পদ যায় না।
ঘটনার নতুন মোড় নেয় গত রোববার(২০ সেপ্টেম্বর), যখন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবার করা মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামাকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন গাজী নজরুল। অন্যদিকে এক দিনের রিমান্ড শেষে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনি জটিলতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে ইতোমধ্যে তাকে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংবিধান যা বলছে:
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কেউ সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন। এছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিজ থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলেই কেবল আসন শূন্য হয়; দল থেকে বহিষ্কার করা হলে পদ যায় না।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও জানান, পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় এবং আদালত বা নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, তারা সেটাই পর্যবেক্ষণ করছেন। সবকিছু দেখে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।