নথিপত্র চেয়ে ৪১ ব্যাংকে দুদকের চিঠি

বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাত

বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে অর্থ ছাড় করা হয়। এসব অর্থের লেনদেন, অনুমোদন ও ব্যয়ের তথ্য যাচাই করতে ব্যাংকগুলোর নথিপত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে অবৈধ প্রভাব খাঁটিয়ে ৪১টি বেসরকারি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে ২৭৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুদক।

ওই মামলার অংশ হিসেবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ব্যাংকটির সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী ও উপস্থিতি তালিকার মূল কপি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ট্রাস্টের নামে অর্থ প্রদানের পে-অর্ডার, চেক ও ভাউচারের মূল কপি চেয়েছে দুদক। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির সিএসআর তহবিলের হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়েছে। ওই সময়ের আগে বা পরে ট্রাস্টের নামে কোনো অর্থ দেওয়া হয়ে থাকলে তার হিসাবও জমা দিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে সিএসআর তহবিল থেকে বছরভিত্তিক ও খাতওয়ারি ব্যয়ের বিবরণী চেয়েছে কমিশন। ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে খোলা যেসব হিসাবে অর্থ জমা হয়েছে, সেসব হিসাবের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রও চাওয়া হয়েছে। দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন কর্মকর্তাকে তদন্তকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া, অনুমোদন এবং অর্থের চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে দুদক। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।