​অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় উৎসাহ দিতে বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগ

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের ছয়টি সংবাদমাধ্যমের ১৭ সাংবাদিককে পুরস্কৃত করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। অনুসন্ধানী ও মানসম্মত সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘জুন-২০২৬ সেরা সাংবাদিক’ সম্মাননা হিসেবে শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সার্টিফিকেট ও অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ)-এর চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষে বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী ও ডিএমডি ফাইন্যান্স ইমরুল হাসান।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, গ্রুপের যেসব সাংবাদিক লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন তাদের মধ্য থেকে ১২ জনকে মাস সেরা সাংবাদিক হিসেবে পুরষ্কৃত করা হবে।

এই আয়োজনের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে অনন্যসাধারণ সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জুন-২০২৬ সেরা সাংবাদিক’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক একরামুল হক ভূঁঞা (লোটন একরাম), নির্বাহী সম্পাদক আফাজ উদ্দিন বিপ্লব, বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক এ কে এম মঞ্জুরুল হক, ডেইলি সানের সম্পাদক মো. রেজাউল করিম লোটাস ও নিউজ২৪ টিভির হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খানসহ গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​জুন ২০২৬ এর সেরা সাংবাদিক হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছেন কালের কন্ঠের ​শিমুল মাহমুদ। তার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “চরম দুরবস্থায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ: শিখন ঘাটতিতে ডাক্তারি ডিগ্রি”।

​সজীব আহমেদ এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “এক রিচার্জে ১৮০-২০০ ডিজিট, বিপাকে গ্রাহক”। চট্টগ্রামের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার অনিক আখন্দ। তার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “কর্তার দাপটে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অফিস হয়ে গেল রেস্ট হাউজ, কেনাকাটায় অনিয়ম”।

​বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে পুরষ্কৃত হয়েছেন ​ইলিয়াস সরকার। তার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কনডেম সেলে এক দশক: শিউলির পর এবার মুক্তি পাচ্ছেন মাশকুরা”। ইকরাম-উদ-দৌলার প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল  “১৫ বছর পর পর এনআইডি নবায়ন করতে হবে”। ​আবির রহমানের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “কেপ ভার্দে-কুরাসাও পারলে বাংলাদেশ কেন পেছনে”। 

​জিএম মুজিবুরের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “ইট-পাথরের নগরে হারিয়ে যাচ্ছে পাখির আবাস, সংকটে বাস্তুতন্ত্র”। চট্টগ্রাম ব্যুরোর মিজানুর রহমানের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “পাহাড় হারাচ্ছে চট্টগ্রাম, বাড়ছে ঝুঁকি”।
​
বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সম্মাননা পেয়েছেন ​শামীম আহমেদ। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “কোটি টাকার কাগুজে গাছ দিচ্ছে না ছায়া!”। ​মাহবুব মমতাজীর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “অপরাধের কারখানা সোশ্যাল মিডিয়া”। ​ইমরান রহমান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “ভয়ংকর জম্বি এখন বাংলাদেশে”।
ডেইলি সানের ​এহসানুল হক জসিম ও আসাদুল ইসলাম এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “Environmental justice turns into a wild goose chase”। ​রফিকুল ইসলাম: “SDG deadlines loom, PWD workforce still untapped”। মৌসুমী ইসলাম: “Can high rates revive investment?”।


​নিউজ২৪ ও টি-স্পোর্টসের সংবাদকর্মী ​সাজ্জাদ হোসেন প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “ঘুষের ফাঁদে প্রবাসীর স্ত্রী, তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে প্রতিমন্ত্রী”। টি স্পোর্টস এর ​মোমিন রোহন প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “বাবা হাসপাতালের প্রহরী, ছেলে জাকির বাংলার উসাইন বোল্ট, নতুন কুঁড়ির সেরা বালক স্প্রিন্টার”।
​
‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপ’ বসুন্ধরা গ্রুপের এই শ্লোগান তুলে ধরে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী বলেন, প্রতি মাসেই দেওয়া হবে এই সম্মাননা। দেশ ও মানুষের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও জোরদার করতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সব সময় সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দেন।

​তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ঘোষণা প্রকাশ করে বলেন, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি মাসেই মানসম্পন্ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিকদের এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।

​বসুন্ধরা গ্রুপের ডিএমডি ইমরুল হাসান জানান, প্রতিটি সংবাদমাধ্যম থেকে সমানসংখ্যক ও মানসম্মত প্রতিবেদন বাছাই করার ক্ষেত্রে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও নির্ধারিত কমিটি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বিভিন্ন বিটের প্রতিবেদনগুলোকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের চমৎকার সুযোগ তৈরি হবে।
​
​ উপস্থিত সম্পাদকরা এই উদ্ভাবনী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ধন্যবাদ জানান। সংবাদকর্মীদের অনুসন্ধানী কাজে অনুপ্রেরণা দিতে এই সম্মাননা কার্যক্রম আগামীতেও ধারা অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।