গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকার ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানায় লাগা আগুন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কারখানার সাততলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, এসআরবি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা কাজ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ২টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কারখানার ভেতরে আগুন পুরোপুরি নেভানো এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও সময় প্রয়োজন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, কারখানার বিভিন্ন তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধ উৎপাদনের সামগ্রী থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে।
অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তবে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গী শিল্প এলাকার স্কুইব রোডে অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের সাততলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন দেখতে পান কারখানার কর্মীরা। প্রথমে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, এসআরবি, পুলিশ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ সতর্কতার সঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়। আগুন যাতে আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হয়নি
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, কারখানার ভেতরে থাকা রাবার ও অ্যালুমিনিয়ামজাত দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এসব পদার্থের উপস্থিতির কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
প্রাথমিকভাবে কারখানার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নির্ধারণে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ধোঁয়ায় ব্যাহত যান চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা
অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়। এতে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গণপরিবহন চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা এবং ধোঁয়ার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও কারখানার ভেতরে নির্বাপণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।