কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন গত তিন দিন যাবত আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিকবার, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি, মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং যেহেতু শুক্রবার-শনিবার বন্ধ ছিল, আমরা তাদের স্পষ্ট ভাষায় বলছি যে, রোববারেই আমরা মজুরি বোর্ড ঘোষণা করব।’
তিনি বলেন, ‘তারপরেও দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের প্রিয় শ্রমিক ভাইদের একটা মহল সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সকাল থেকে সমস্ত রাস্তার মধ্যে শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া হলো।’ মজুরি বোর্ড ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের দাবি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যাই হোক, আশা করি আমার এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে আপনাদের এই মাধ্যমে শ্রমিক ভাইয়েরা তাদের যে দাবি ছিল সেটা আজকেই ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি রাস্তা ছেড়ে তাদের কলকারখানায় যোগদান করবে।’
মজুরি বোর্ডের সদস্যদের দ্রুত মজুরি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা মজুরি বোর্ডের সদস্য হয়েছেন তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, দ্রুত তারা মজুরি বোর্ডের পক্ষ থেকে মজুরি ঘোষণা করবেন।’ মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো এটা স্বাধীন বোর্ড, আমরা তো নির্দিষ্ট করে দিতে পারি, তারা তো বসবে বসে তাদের শ্রমিক প্রতিনিধি আছে, মালিক প্রতিনিধি আছে আসলে তারাই আলোচনা করবে, এখন তাদের ওপর।’
শ্রমিকদের আন্দোলনে রাজনৈতিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে রোববার মজুরি বোর্ড ঘোষণার বিষয়ে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু এরপরও কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘এরা শ্রমিকও না, আপনারা দেখেন যারা শ্রমিকদের যত নেতা আছে, তাদের গার্মেন্টসের যত ফেডারেশন, তারা আমাদের সঙ্গে বসে তারা আহ্বান করল মিডিয়ার মাধ্যমে যে, আমাদের দাবি অনুযায়ী সরকার আগামী রোববারে মজুরি বোর্ড ঘোষণা করবে, কাজেই শ্রমিক ভাইয়েরা তোমরা কলকারখানায় থাকো। কিন্তু আজকে কি হলো? ওই সংশ্লিষ্ট কয়েকটা মিলের অহেতুক ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এটা তো আমার মনে হয় ভেরি মাচ ক্লিয়ার যে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল কিছু পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক সংগঠনগুলা এই কাজগুলো করছে যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয় এটা জনগণ এবং শ্রমিকরা ক্লিয়ার হয়ে যাবে।’ আন্দোলনে নিষিদ্ধঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের নেতার অংশ নেওয়ার অভিযোগও করেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা তো ক্লিয়ার এবং একটি ছাত্র সংগঠনের, এটা একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক উনি দেখা যায় যে, শ্রমিক সংগঠন, শ্রমিক সেজে ওইখানে গিয়ে, এটা তো মিডিয়ার মাধ্যমে তো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তো তাদের ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।’
কোন ছাত্র সংগঠনের নেতার কথা বলছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের। সেটা তো আপনাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে আমি বর্ণনা দিচ্ছি, দেখেন না সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে তো।’ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মনে করার তো কারণ নাই, মনে করেন আপনারাই তো ভালো করে বোঝেন, এটাকে সামনে রাখছে, কিন্তু ভেতরে আরেকটা গ্রুপ তাদের ফায়দা হাসিল করার জন্য।’