গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতের ‘সঠিক সিদ্ধান্তের’ প্রত্যাশা বাংলাদেশের

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ভারতের ‘সঠিক সিদ্ধান্তের’ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে। এটি নবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং দুই দেশের অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে নিম্নপর্যায়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। এ আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে। চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি আবার নবায়ন হবে বলেও প্রত্যাশা করছে ঢাকা। এ ক্ষেত্রে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিশ্বাস বাংলাদেশের।

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। এতে পানিসম্পদমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি ও মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় রেখে আলোচনা এগিয়ে নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থাই অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেটি সঠিক ও ন্যায্য, সেটিই হবে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান। ভবিষ্যতে পানিসংকট সমাধানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে, এমন সিদ্ধান্তই নেয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। বাংলাদেশ এ ঘাটতি কমাতে চায়। দুই দেশের মধ্যে একাধিক ইস্যু রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো সমস্যা থাকলে কিংবা ন্যায্য দাবি আদায় করতে হলে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। নিজেদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য কথা বলতে হবে, আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমাধানে পৌঁছাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের দুই দিনের অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং জলবায়ু তহবিল থেকে ঋণের পরিবর্তে অনুদান দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে বড় নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। গত ছয় মাসে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকারের নেয়া খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগগুলোও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।