সম্প্রতি ২০২১ সালকে বাংলাদেশের জন্য জয়জয়কার সাল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করছে,তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া দেশটির অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরেছে বিশ্বের সামনে, দেশটি কোটি কোটি মানুষকে পৃষ্ঠা দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে। তবে গত কয়েক বছরে একটি বিষয় আরো স্পষ্ট হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েছে। অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য এবং বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণাগুলো প্রকাশ করে যে, দেশটি যথেষ্ট ‘হেডওয়াইন্ডের’ মুখোমুখি। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সামাজিক সূচকও দেশের সাফল্য নিয়ে উদ্বেগ উত্থাপন করেছে। কাকতালীয়ভাবে নয়, এই পরিবর্তনগুলো এমন একটি সরকারের অধীনে ঘটছে যে, সরকার তার নাগরিকদের কাছে কম দায়বদ্ধ।
অর্থনীতির অবনতি: ২রা এপ্রিল প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, ২০২৪ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (Bangladesh Bureau of Statistics বা বিবিএস) থেকে একটি প্রতিবেদন এসেছে যে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৭৮ শতাংশ। আগের ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির তুলনায় এটি একটি নাটকীয় পতন, যা দাঁড়িয়েছে ৬.০১ শতাংশে। আগের বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সংখ্যাটি অনেক বেশি ছিল; ২০২২ অর্থবছরে এটি ছিল ৯.৩ শতাংশ এবং ২০২৩ অর্থবছরে এটি ছিল ৭.০৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির অনুমান ২০২৪ অর্থবছরের জন্য সরকারের প্রাথমিক প্রজেকশনের একেবারে বিপরীত, যা বাংলাদেশ সরকার জানুয়ারিতে ৭.৫ শতাংশ থেকে ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যর্থ হয়েছে।
আলী রিয়াজ বলেন, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে তারা এটা দেখে বিস্মিত হননি কারণ, বিশ্বব্যাংক গত অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার দেখিয়েছে ৫.৮ শতাংশের নিচে এবং ২০২২ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির ৭.১ শতাংশের চেয়ে কম। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক দশকে দেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টানা দুই বছর নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে এই নিম্নমুখী প্রবণতা খুব বেশি পরিবর্তন হবেনা।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংকট, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে স্পষ্ট, বহিরাগত ধাক্কার কারণে হঠাৎ করে দেখা দেয়নি। বেশ কিছুদিন ধরে এটি চলছিল। দুই বছর আগে, মন্দা এড়াতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে পৌঁছেছিল। সরকার নতুন ঋণ সুরক্ষিত করেছে, কিন্তু এগুলো বিদ্যমান বৈদেশিক ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রথমবারের মতো, ২০২৩ সালের শেষের দিকে বৈদেশিক ঋণ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় নজিরবিহীন হারে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশটি এই ঋণ পরিশোধে ২.০৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, ঋণ পরিসেবা শুধুমাত্র বিদেশি নয় দেশীয় উৎস থেকে, সরকারকে তার পিপিজি [public and publicly guaranteed] ঋণের একটি বড় অংশ পরিশোধ করতে নতুন করে ঋণ নিতে বাধ্য করছে।
তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মারাত্মক ধাক্কা দিচ্ছে। ২০২৪ এর এপ্রিলের প্রথমদিকে, তারা আইএমএফ- এর প্রস্তাবিত ১৯.২৬ বিলিয়নের নিচে ছিল। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতি অনুসারে, নন-পারফর্মিং ব্যাংক ঋণ, যা মোট বকেয়া ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ সেটিও ক্রমে বাড়ছে। গত পনের বছরে এর পরিমাণ সাড়ে ছয় গুণ বেড়েছে। এক বছরে, এটি ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে আইএমএফের চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গোপন উপায় অবলম্বন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিট-অফ নীতি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা বই থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণের অঙ্ক মুছে ফেলবে কিন্তু কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না। পরিবর্তে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি সামপ্রতিক সংশোধনী অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের শাখা কোম্পানিগুলো ঋণ নিয়ে যেতে পারবে। আরেকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার ব্যাংকিং খাত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘দুর্বল ব্যাংক’কে ‘শক্তিশালী ব্যাংক’-এর সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এপ্রিল মাসে, বিশ্বব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ এর জেরে দুর্বল ব্যাংকগুলোর দায় শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের ঘাড়ে এসে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোতাবেক, দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত অনেক ব্যাংককে রাজনৈতিক বিবেচনার অধীনে রেখে গত পনের বছরে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যারা এই ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ধার নিয়েছিলেন তারা যে সুবিধাগুলো উপভোগ করেছিলেন তা এখন সাধারণ জনগণের দ্বারা পরিশোধ করা হচ্ছে।
নাগরিকদের অর্থনৈতিক দুর্দশা: বিস্তৃত অর্থনৈতিক সংকট বাংলাদেশিদের জন্য, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং সমাজের দরিদ্র শ্রেণির জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনছে। যদিও ফেব্রুয়ারির সরকারি পরিসংখ্যান দাবি করে যে, মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের নিচে, বাজারে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেক বেশি। বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম কমলেও বাংলাদেশিরা এর সুফল ভোগ করতে পারেননি। এর পরিবর্তে গত মার্চে আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। শুধু ২০২৩ সালেই সরকার তিনবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি ‘খাদ্য নিরাপত্তা পরিসংখ্যান ২০২৩’-এর অধীনে বিবিএস জরিপ দ্বারা সরবরাহ করা তথ্য থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দুর্দশা বোঝা যায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দেশে প্রায় ৩৭.৭ মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক চতুর্থাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ মেটাতে ধার করছে। একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের একটি সমীক্ষা দেখায় যে, ২৮ শতাংশ পরিবার ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে টাকা ধার নিয়েছে।
অধ্যাপক রিয়াজ আরো জানান, অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে, গত এক দশক ধরে পরিবারের সদস্যদের টাকা ধার নেয়ার পরিমাণ মূলত বেড়ে চলেছে। ২০২২-এর একটি বিবিএস জরিপ অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশে প্রতি পরিবারে ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যেখানে ২০১০ থেকে ২০১৬- ছয় বছরের মধ্যে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলো অনেক বাংলাদেশির অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির দিকটি তুলে ধরে।
সামাজিক সূচকগুলো কী দেখাচ্ছে: শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচক নয়, বেশ কয়েকটি সামাজিক উন্নয়ন সূচকও উদ্বেগ উত্থাপন করেছে। বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে আয়ু বৃদ্ধির নিবন্ধন করে আসছে। ২০২০ সালে, এটি ৭২.৮ বছরে পৌঁছায় যা এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কিন্তু তারপর থেকে প্রবৃদ্ধির ধরন পাল্টেছে। ২০২১ সালে, আয়ু বৃদ্ধিতে পতন দেখা যায় ৭২.৩ বছর। ২০২২ সালে, বিবিএস-এর জরিপে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া গেছে ৭২.৪ বছর। কিন্তু বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০২৩ (ইঝঠঝ-২০২৩) এর বিপরীতে বিবিএস দ্বারা ২০২৪ সালের মার্চে প্রকাশিত তথ্য দেখায় ৭২.৩ বছর। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে এই তথ্যের সংযোগ রয়েছে।
আয়ুষ্কালের হ্রাস আংশিকভাবে শিশুদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণে। ইঝঠঝ-২০২৩ দেখায় যে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, নবজাতক এবং এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার বেড়েছে। এটি একটি একক ঘটনা নয়। উদাহরণস্বরূপ, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার পাঁচ বছর আগে ছিল প্রতি ১,০০০ জনে ২১ জন, যেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ এবং ২০২৩ সালে সংখ্যাটি ২৭-এ পৌঁছেছে। প্রতি ১,০০০ জন জীবিত শিশুর মধ্যে এক মাসের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০তে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালে ১৬ থেকে বেড়েছে। পাঁচ বছর আগে, এই বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ছিল ১৫। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার গত বছরে প্রতি ১,০০০ জনে ৩৩ ছিল, যা ২০২২ সালে ৩১ এবং পাঁচ বছর আগে ২৮ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
BSVS-২০২৩ সামাজিক সূচকেও একাধিক সমস্যা চিহ্নিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে- ২০২০ সালে ৩১.৩ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে সেটি বেড়ে ৪১.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। BSVS-2023-এর পরিসংখ্যান এবং বাংলাদেশে শিক্ষাগত তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics ev BANBEIS) দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দুটি দিক লক্ষণীয়। প্রথমত, মাধ্যমিক-স্কুল স্তরে ছাত্রদের হার কমেছে এবং যুব জনগোষ্ঠীর মধ্যে NETT (not in employment, education, or training) বৃদ্ধি পেয়েছে। BANBEIS -এর তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বাংলাদেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ কমেছে।
BSVS-২০২৩ অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ থেকে চব্বিশ বছরের বিদ্যার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০২০ সালে, মহামারি শুরুর সময়, ২৮.৪৬ শতাংশ বিদ্যার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে ছিল, যেখানে ২০২৩ সালে সংখ্যাটি পৌঁছায় ৪০.৭২ শতাংশে। অন্যদিকে, ইঝঠঝ প্রকাশ করে যে ৩৯.৮৮ শতাংশ যুবক যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে তাদের কেউ স্কুলে বা চাকরিতে নেই। শতাংশটি ২০২২-এর তুলনায় একটু ভালো ছিল, ২০২২ এটি ছিল ৪০.৬৭ শতাংশ, কিন্তু ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, ঘঊঞঞ প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল। এই হিসাবে, আট বছরে প্রায় দশ শতাংশ বৃদ্ধির একটি প্যাটার্ন প্রতিফলিত করে।
অধ্যাপক আলী বলেন, কীভাবে এটি ঘটেছে? এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনগুলো হঠাৎ করে বা নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে ঘটেনি। পরিবর্তে, এটি ক্রমবর্ধমানভাবে একটি শাসনব্যবস্থার অধীনে সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি গণতন্ত্র এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিনিময়ে যে শাসনব্যবস্থা ‘উন্নয়নের’ জিগির তুলে তার বৈধতা দাবি করে আসছে। জবাবদিহিমূলক শাসনের অনুপস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আটকে রাখছে। সরকার একটি ক্লায়েন্টলিস্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে যার উপর তার টিকে থাকা এবং স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। সামপ্রতিক নির্বাচনগুলো অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না, এবং এর ফলে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে উঠেছে যা ক্রমবর্ধমানভাবে ক্ষমতাসীনদের বিজয়কে সহজতর করে।
‘এটা অপ্রত্যাশিত নয়। যেহেতু দেশের শাসন ব্যবস্থা একটি হাইব্রিড শাসন থেকে কর্তৃত্ববাদে রূপান্তরিত হয়েছে, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে, সেক্ষেত্রে সামাজিক উন্নয়ন সরকারের কাছ থেকে কম মনোযোগ পেয়েছে। এটি জনাদেশের প্রতিফলন নয়। শাসনের টিকে থাকা জনসমর্থনের উপর নির্ভরশীল নয়, এটি কার্যক্ষমতার উপর ভিত্তি করে দায়িত্বশীলদের বিচার করে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বার্ষিকীর সঙ্গে যে আশা জন্মেছিল অচিরেই তা দিবাস্বপ্নের মতো মনে হতে পারে।’ অধ্যাপক রিয়াজ যোগ করেন।
লেখক: আটলান্টিক কাউন্সিল সাউথ এশিয়া সেন্টারের একজন অনাবাসী সিনিয়র ফেলো এবং ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক।