নেপালের মানাসলু পর্বতশৃঙ্গে (২৬,৭৮১ ফুট) কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই সফলভাবে আরোহণ করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী। এটি প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশির অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গ জয়, যা দেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিলেন আরেক পর্বতারোহী তানভীর আহমেদ, যিনি নিজের প্রথম প্রচেষ্টাতেই মানাসলুর শৃঙ্গ জয় করে ভেঙেছেন দীর্ঘদিনের এক ট্যাবু।
ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান বলেন, ‘মানাসলুর চূড়ায় একই দিনে দুইবার উড়েছে আমাদের লাল-সবুজ পতাকা। বাবরের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল অক্সিজেন ছাড়াই কোনো আটহাজারি শৃঙ্গ জয় করা। মানাসলু সেই স্বপ্ন পূরণের পর্বত হয়ে থাকল।’
তিনি আরও জানান, দেশের সীমিত সুবিধার মধ্যে কঠিন অনুশীলনের মাধ্যমে তানভীরের এই সাফল্য আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু দিয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করেন বাবর ও তানভীর। ৭ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু থেকে সড়কপথে পৌঁছান তিলচে গ্রামে। সেখান থেকে পাঁচ দিনের ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে তারা মানাসলুর বেসক্যাম্পে পৌঁছান।
অভিযোজন পর্যায়ে তারা প্রথমে ওঠেন ক্যাম্প-১ (৫,৭০০ মিটার)। এরপর দ্বিতীয় দফায় তানভীর রাত কাটান ক্যাম্প-২ (৬,৩০০ মিটার), আর বাবর যান আরও ওপরে ক্যাম্প-৩ (৬,৭০০ মিটার) পর্যন্ত। অভিযোজন শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর তারা পৌঁছান ক্যাম্প-৪ (৭,৪০০ মিটার)। সেখান থেকে রাতেই শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে, গাইড বীরে তামাং ও ফূর্বা অংডি শেরপার সহায়তায়, তারা পৌঁছান মানাসলুর শিখরে।
এর আগে ডা. বাবর আলী এভারেস্ট, লোৎসে ও অন্নপূর্ণা-১ জয় করেছেন। মানাসলু জয় তার চতুর্থ আট-হাজারি অভিযাত্রা। তার লক্ষ্য, বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয় করা।
তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, এই জয় আমার সাহস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি আরও অনেক উচ্চ শৃঙ্গ অভিযানে অংশ নিতে চাই।
বাংলাদেশ থেকে এভারেস্টসহ কয়েকটি উচ্চ পর্বত জয় করা পর্বতারোহী থাকলেও অক্সিজেন ছাড়া আট-হাজারি জয় করার ঘটনা এই প্রথম। পর্বতারোহণের ইতিহাসে এটি একটি বড় অর্জন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।