গেজেট প্রকাশ

ভোটের দায়িত্বে অনিয়ম নজরে আসলে সরাসরি শাস্তি দেবে ইসি

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে দুটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এক্ষেত্রে বরখাস্ত থেকে শুরু করে জেল-জরিমানাও হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ বিষয়ে ছাড় পাবে না।

রোববার (৫ অক্টোবর) ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কমিশন বা কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমত, রিটার্নিং অফিসারের কোনো আদেশ বা নির্দেশ পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হইলে বা অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে বা উহার অধীন কোনো অপরাধ করলে বা কর্তব্যে অবহেলা করলে তিনি অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং অসদাচরণ তার চাকরি বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ মর্মে বিবেচিত হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, কমিশনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তা কমিশনকে জানাতে হবে। শাস্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি ও বার্ষিক গোপন প্রতিবেদনেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অসদাচরণের জন্য কোনো নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বা কমিশনের আদেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

কমিশনের আদেশ প্রতিপালন না করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নির্বাচনি দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম করলে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো বিধান নিয়ে মতবিরোধ হলে কমিশনের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে।

এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিধান কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে।

২০২২ সালের অক্টোবরে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বন্ধের পরও তৎকালীন ইসি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেই এবার শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ সংশোধন করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।