প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়।
পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।
এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।
নাগার্জুন বিদ্যাপীঠ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। এটি বিখ্যাত বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুনের (১৫০-২৫০ খ্রি.) নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত, যিনি মাধ্যমিক বৌদ্ধ দর্শনের প্রবর্তক ও ধ্যানী দার্শনিক।
শূন্যতার উপর তার পুঁথিগুলো নাগ-ফনি (সর্প-ড্রাগন) থেকে উদ্ধার করে ভুবনময় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার চিকিৎসা রসায়ন শাস্ত্রের উপর গবেষণাধর্মী রচনা তৎকালীন সময়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয় এবং এ বিষয়ে তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুনকে উৎসর্গ করেই নাগার্জুন বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কৃষ্ণা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। এই বিদ্যাপীঠের গ্রন্থাগারে বৌদ্ধ ধর্মশিক্ষা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, দর্শন, খণিজবিদ্যা এবং ভূগোল সহ বিভিন্ন শাখার পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়। লয়প্রাপ্ত এই বিদ্যাপীঠটিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে খ্রিস্টপূর্ব কয়েক বছর আগের প্রত্ন বস্তুর সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাপ্ত অন্যান্য প্রাচীন বস্তুর মধ্যে রয়েছে সাতবাহন শাসকদের জারি করা মুদ্রা ও গৌতম পুত্রী বিজয়া সাতকুনির শিলালিপি।