প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।
এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।
ভারতের বিহার রাজ্যের তেলাহারা এলাকায় আবিষ্কৃত হয়েছে কয়েক হাজার বছরের পুরনো এক বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন—তেলাহারা বিশ্ববিদ্যালয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তাঁর ভ্রমণ বিবরণে তেলাহারা বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান বলেও মন্তব্য করেন। ২০০৯ সালে খনন শুরু করে ২০১৪ সালে কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া তেলাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ মেলে।

নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা দাবি করেছেন তেলাহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন স্থাপনায় ব্যবহৃত ইটগুলো কুষাণ যুগের এবং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকেও বেশ পুরনো। বেদবীর আর্য রচিত 'দ্যা ক্রনোলজি অব কুষান্স' এর গবেষণামূলক একটি অংশ অনুসারে কুষাণ সাম্রাজ্য খ্রিষ্টপূর্ব ১২শ থেকে ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত বিকাশ লাভ করেছিল। যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে এই তেলাহারা বিশ্ববিদ্যালয় তিন হাজার বছরের ও অধিক প্রাচীন।
রহস্য ও গৌরবে ঘেরা বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়