জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে আসার কারণ 

১১ দলের নির্বাচনি সমঝোতা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতায় না থাকার কথা জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতায় না থাকার কারণ তুলে ধরেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। 

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অস্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে দলটির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

তিনি আরো বলেন, জামায়াত শরীয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবে কিনা এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের সকল মানুষ একমত যে, দেশের বর্তমান দুর্দশার কারণ বিদ্যমান আইন। সেই বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করার জন্যই আমাদের রাজনীতি।

এখন যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে তাহলে আমরা শংকিত হই। আমরা নীতির রাজনীতি করি। আমাদের রাজনীতির সেই মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্নমত তৈরি হয় তখন তাদের সাথে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নাই।

এক বাক্স নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে একটি সমঝোতার নীতি নিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের প্রাধান্যে যে সমঝোতা গড়ে উঠেছে তা আর ইসলামের পক্ষের সমঝোতা থাকছে না, একই সঙ্গে এর রাজনৈতিক লক্ষ্যও পরিষ্কার নয়। সেজন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সমঝোতায় থাকছে না।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ মুখপাত্র আরো বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে দলটির সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছেন। সেখানে খালেদা জিয়ার তৈরি করা ঐক্যের পাটাতনের ওপরে কাজ করার কথাও বলেছেন। তার এই বক্তব্য আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে, পাতানো নির্বাচনের আশংকা তৈরি করেছে।

এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করেনি। সেই কারণে যে ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীতা টিকেছে সেই আসনগুলোতে এককভাবে তার দল নির্বাচন করবে বলে জানান গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, বাকি ৩২ আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আদর্শিক বিবেচনায় কোনো না কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে।