জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যদি কোনো দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে এ দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দেবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই আজ দেশ একটি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে পেরেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়া, যেখানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। প্রকাশ্যে ১১ দলীয় জোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে তারা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ অবলম্বন করছে। এমন আচরণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি। যদি পার্শ্ববর্তী দেশ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তাহলে এই দেশের জনগণই তার জবাব দেবে।
তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। তাদের সরকারের মূল অগ্রাধিকার থাকবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা।
জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। বক্তারা সবাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।