ছবিতে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভোট

রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ বছর পর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভিড় করছেন ভোটাররা। দেশের ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি, যাদের বড় অংশকে এবারের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিজিটালভাবে সচেতন এই তরুণ প্রজন্ম প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভোট দেওয়ার আগে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট শেষে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হলো এবং মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে।

সকাল ৮টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বাড্ডার একেএম রহমতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে আলোচিত।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট শেষে তিনি বলেন, জনগণ তাকে চেনে এবং ভালোবাসে; এবারও তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে সকালে ভোট দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বলেন, বহু বছর পর মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ৩৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম জাতীয় ভোট দেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ভোট দেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও তাকে পরাজিত করতে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন।

পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি নেতা সারজিস আলম আটোয়ারী উপজেলার বামনকুমার রাখালদেবীহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়েছেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তবে ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের ভোট দিতে পারেননি আলোচিত তিন প্রার্থী। কারণ তারা সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার নন। তারা হলেন ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং ঢাকা-১৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।

এছাড়া ভোলা সদর-১ আসনে নিজের প্রতীক গরুর গাড়ি মার্কায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি ওই আসনের ভোটার নন; তার নাম রয়েছে ঢাকা-১৭ আসনের বারিধারা এলাকায়।

উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর ভোটগ্রহণ চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে।