রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার

শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান সাকিব

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি তিনি প্রথমবারের মতো লাইভে গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যা নিয়ে তিনি তোপের মুখে পড়েন। তার রেশ না কাটতেই এবার শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন সাকিব।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দুই বছরের নির্বাসন ভেঙে দেশে ফেরা, নিজের বিরুদ্ধে আনা হত্যা মামলাসহ সব অভিযোগের বিচার মোকাবিলা করতে এবং বিদায়ী সিরিজ খেলতে প্রস্তুত।

 

সম্প্রতি দেশে ফেরার প্রশ্নে দ্রুততম সময়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন সাকিব। এবারও তিনি সেই কথার পাশাপাশি ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চাওয়া শেখ হাসিনার সঙ্গী হওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। এর আগে রয়টার্সকে হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা আগামী ডিসেম্বরে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরবেন। একই প্রসঙ্গে এবার সাকিব বলেন, তিনি এখনই দেশে ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই ফেরার চেষ্টা করবেন।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অধিনায়ক উল্লেখ করে বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘অধিনায়ক যা বলেন, আমরা তাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তারা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা মেনে চলব।’

 

শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এলপিএলে খেলার কারণে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন সাকিব। সেখান থেকে তিনি ফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে ক্লিয়ারেন্স দেয় এবং আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবকিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’ গত দুই বছর বিদেশে কাটানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এটাই ছিল তার সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য। সাবেক এই অধিনায়কের পরিস্থিতি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সৃষ্ট বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। হাসিনার বহু সহযোগীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, যা তাদের দেশে ফেরায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাকিবের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা।