জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন বলে জানা গেছে। এ সময় ‘বয়কট বয়কট, হাসনাত হাসনাত’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহর।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। সংসদে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতি মাসে গড়ে ২৬০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর বর্তমান সরকারের সময়ে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে ৩১১টিতে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮০টি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও বর্তমান সরকারের সময়ে একই সময়ে ১ হাজার ৭৮৯টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, জেলায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি ‘কালচারাল জেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমার মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
হাসনাত আরও প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন। তিনি বলেন, এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে কি না, নাকি সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সংসদে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় তিনি সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।