বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

দেশে সুনির্দিষ্ট চক্রান্তের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি দাবি করেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলে আমাদের চিরচেনা মাতৃভাষার নিজস্ব রূপ ও সৌন্দর্য বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

তবে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বাঙালি জাতির রক্তেই যেকোনো বিদেশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অদৃশ্য এবং স্বতঃস্ফূর্ত শক্তি রয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে রিজভী বলেন, আমাদের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত প্রচলিত শব্দগুলোকে বাদ দিয়ে কৌশলে নতুন শব্দ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রক্ত, লাশ বা খুনের মতো সুপরিচিত শব্দগুলোকে বিকৃত করার প্রক্রিয়াকে তিনি বহিরাগত সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতারই অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ কোনো সর্বজনীন বা পূর্ণাঙ্গ রেনেসাঁ ছিল না।

বরং এটি প্রধানত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা হিন্দু পুনরুত্থানবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে তৎকালীন অবহেলিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজ পুরোপুরি উপেক্ষিত থাকে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক গণসংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমাদের ভৌগোলিক স্বাধীনতা এবং ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সংকটের সময়ে কিছু স্বার্থান্বেষী বুদ্ধিজীবী সবসময়ই শাসকের তোষামোদিতে ব্যস্ত থাকেন।

হিটলারের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গুম, নিখোঁজ কিংবা জনগণের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে অতীতেও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা কোনো কথা বলেননি।

সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে ও রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুস্তফা মজিদ।

এ সময় অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।