ফ্রান্সে বর্ণবাদী হামলায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববাসী

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে অভিবাসী ও মুসলিম অধ্যুষিত একটি অঞ্চলে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক হামলায় ১২ বছরের এক শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ফরাসি সরকার এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে সরাসরি একটি সন্ত্রাসী ও বর্ণবাদী হামলা বলে চিহ্নিত করেছে।

শুক্রবার সকালে ঘাতক ব্যক্তি একটি গাড়িতে চড়ে পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল এবং খেলার মাঠের সামনে অবস্থান নেয়। সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলের পুরোনো একটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে নির্বিচারে গুলি চালায়।

দীর্ঘ তাণ্ডবের পর ৩৯ বছর বয়সি ওই বন্দুকধারীকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, ফ্রান্সে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

হামলার শিকার ১২ বছরের শিশুটির শরীরে আটটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির হিজাবধারী মা জানান, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ এক শিশুর ওপর এমন পাশবিক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার মতে, হিজাব পরিধান এবং গায়ের রঙের কারণেই তার সন্তানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুসলিম কমিউনিটির সংগঠনের নেতারা বলছেন, উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের বিদ্বেষমূলক প্রচারণাই সমাজে চরমপন্থা ও ইসলামভীতি বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে বর্তমানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ ও বৈষম্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ইউরোপে বসবাসকারী প্রতি দুজন মুসলিমের একজন নিয়মিত বৈষম্যের মুখোমুখি হন। প্যারিসের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি পশ্চিমা বিশ্বে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত