দোয়া করে আমরা তাৎক্ষণিক ফলাফল পেতে চাই। দোয়া করার পর কাঙ্খিত বস্তু পেতে দেরি হলে তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ কি আমার দোয়ার জবাব দিচ্ছেন না?
প্রযুক্তি নির্ভর দ্রুতগতির এই জীবনযাত্রা আমাদের অনেক কাজ সহজ করছে তবে একইসঙ্গে কমিয়ে দিচ্ছে আমাদের ধৈর্য। পার্থিব অন্য সবকিছুর মতো অনেক সময় আমরা আল্লাহর কাছেও তাড়াহুড়ো করে ফলাফল চাই। মনে হয়, কোনো দেরি ছাড়া এখনই দরকার। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত নিয়মে চলমান। তাই তাৎক্ষণিক কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে হতাশ হই, ভাবি দোয়া কবুল হচ্ছে না।
দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে আন্তরিকতা, ধৈর্য ও ঈমানের সঙ্গে কোনো দোয়া করলে তা কখনোই বৃথা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া না করে এবং অধৈর্য না হয়, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, অধৈর্য হওয়া বলতে কী বোঝায়? তিনি বলেন, মানুষ যখন বলে, আমি বারবার দোয়া করেছি, কিন্তু মনে হয় কবুল হচ্ছে না এবং এরপর হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেয়। (সহিহ মুসলিম)
দোয়ায় ধৈর্য ও আন্তরিকতার গুরুত্ব
কোরআন ও হাদিসে বারবার ধৈর্য ও আন্তরিকতার কথা এসেছে। ধৈর্য মানুষকে আত্মিকভাবে শক্তিশালী করে।
দোয়া করার সময় শুধু দায়িত্ব পালনের মতো করে দোয়া করলেই যথেষ্ট নয়; আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। নবীজি (সা.) নিজেও অটল বিশ্বাস ও গভীর মনোযোগ নিয়ে একই দোয়া বারবার করতেন। তাই দোয়া করার পাশাপাশি ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং হাদিসের বাণী অনুযায়ী আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।