সিয়াম সাধনার প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত, তবে ইফতারের সময়টি আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্রুত ইফতার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ইফতারের সময় বিশেষ দোয়া পাঠ করতে শিখিয়েছেন। ইফতারের সঠিক দোয়া এবং এর তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো:
ইফতারের শুরুর দোয়া
ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে বিসমিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করতে হয়। ইফতারের সময় পড়ার জন্য হাদিসে এই দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে:
আরবি: اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিজক্বিকা আফত্বারতু।
- অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ)
ইফতারের পরের বিশেষ দোয়া
ইফতার করার পর শরীর যখন সতেজ হয়, তখন শুকরিয়াস্বরূপ নবীজি (সা.) আরেকটি দোয়া পড়তেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার শেষ করে এই দোয়াটি বলতেন:
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
- উচ্চারণ: জাহাবায জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।
- অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াবও নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ)
দ্রুত ইফতার করার ফজিলত
ইসলামী শরিয়তে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ইফতার করাকে কল্যাণের কাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, ‘মানুষ যতদিন পর্যন্ত সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।’
দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়
ইফতারের আগ মুহূর্তটি দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় ইফতারি সামনে নিয়ে বসে না থেকে তসবিহ-তাহলিল, তওবা-ইস্তিগফার এবং দুরুদ পাঠ করা উচিত। নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ইফতারের সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার যেকোনো (বৈধ) দোয়া কবুল করে নেন। তাই এই মূল্যবান সময়টিকে কেবল খাবার আয়োজনের ব্যস্ততায় নষ্ট না করে বেশি বেশি মোনাজাত করা জরুরি।
সুন্নাহ ও সঠিক নিয়মে ইফতারের জরুরি কিছু পরামর্শ
রোজায় সুস্থ থাকতে বর্জন করুন ভাজাপোড়া
