৭ কারণে গোসল ফরজ হয়

ইসলামে ইবাদত কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলো পবিত্রতা। পবিত্রতা ছাড়া নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন—


اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ التَّوَّابِیۡنَ وَ یُحِبُّ الۡمُتَطَهِّرِیۡنَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২২২)

তাই একজন মুমিনের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি— কোন কোন অবস্থায় গোসল করা ফরজ হয়ে যায়। সে অবস্থাগুলো কী? যে অবস্থাতে গোসল না করলে সে পবিত্র হয় না। আল্লাহ তাআলা আরো নির্দেশ দিয়েছেন—

وَ اِنۡ كُنۡتُمۡ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوۡا ؕ

‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: আয়াত ৬)

কেন গোসল ফরজ হয়?

যেসব কারণে একজন মুসলিমের ওপর গোসল করা বাধ্যতামূলক, তাহলো—

১. সহবাসের পর: স্বামী-স্ত্রীর মিলনে বীর্যপাত হোক বা না হোক, উভয়ের ওপর গোসল ফরজ।

২. স্বপ্নদোষের পর: ঘুমের ঘোরে উত্তেজনা অনুভূত হলে বা পোশাকে নাপাকির চিহ্ন থাকলে।

৩. বীর্যপাতের পর: জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে বীর্য বের হলে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন-

وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ

‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৬)

হাদিসে এসেছে—

إِذَا أَفْرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ الْجِمَاعِ فَلْيَغْتَسِلْ

‘যখন তোমাদের একজন যৌন সম্পর্ক শেষ করে, তখন সে গোসল করুক।’

৪. মাসিক (হায়েজ) সমাপ্তির পর: নারীদের মাসিক ঋতুস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হলে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ

‘তোমরা যদি নারীদের মাসিকের ব্যাপারে জানতে চাও, বলো যে এটি অশুচি; সেই সময় তাদের থেকে দূরে থাকো যতক্ষণ না তারা পরিশুদ্ধ হয়।’ (সূরা বাকারা: আয়াত ২২২)

৫. নিফাস সমাপ্তির পর: সন্তান প্রসবের পর (৪০ দিন) রক্তস্রাব বন্ধ হলে।

৬. ইসলাম গ্রহণের পর: কোনো অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে গোসল করা বাধ্যতামূলক।

৭. মৃত্যুর পর: কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল দেওয়া জীবিতদের ওপর ফরজ।

পবিত্রতা কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়; এটি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চাবিকাঠি। উপরের কোনো কারণে গোসল ফরজ হলে অলসতা না করে দ্রুত পবিত্র হওয়া উত্তম। সঠিক নিয়মে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক, যাতে ইবাদত কবুল হয় এবং আল্লাহর কাছে নৈকট্য বৃদ্ধি পায়।