হারাম উপার্জনে জান্নাত পাওয়া যাবে না

হালাল রিজিক ভক্ষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের হালাল রিজিক ভক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা জুম’আর ২৮ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ হালাল রিজিক অন্বেষণ করো।’ 

হালাল উপার্জনে রয়েছে বরকত। রাসুলে পাক (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে থাকে, তাকে এর মধ্যে বরকত দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম)

তাই, মুমিনের উচিত নিজেকে সুদ, ঘুষ, অন্যায়ভাবে আত্মসাত্কৃত অর্থসহ সব ধরনের হারাম উপার্জন থেকে দূরে রাখা।

নবী-রাসুলগণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা ছিলেন নিষ্পাপ। তবু আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনুন-এর ৫১ আয়াতে এরশাদ করেন– ‘হে রাসুলগণ! তোমরা হালাল ও পবিত্র রিজিক আহার করো আর সৎকর্ম করো।’

একজন মুমিন, মুসলিম বান্দা সারাজীবন তাঁর চিন্তা-চেতনা, কথা ও কাজে পবিত্রতা রক্ষা করে চলেন। পবিত্র বস্তু ছাড়া আল্লাহ তায়ালা কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। 

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৭২ আয়াতে এরশাদ করেন– হে ইমানদাররা, তোমাদের আমি যেসব পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো। পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করে থাকো। 

হালাল রিজিক উপার্জন করা অন্যতম ফরজ ইবাদত। হাদিস শরিফে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) বলেন, ‘হালাল জীবিকা সন্ধান করা নির্ধারিত ফরজগুলোর পরে বিশেষ একটি ফরজ।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি)। 

সব মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর হালাল উপার্জন করা ফরজ। হালাল ও সৎ উপার্জনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলে পাক (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বহস্তে উপার্জিত হালাল রিজিক আহার করল, সে বিদ্যুৎ গতিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে।’ ‘যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করে জীবন ধারণ করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং তাকে কখনও শাস্তি দেবেন না।’ ‘যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে হালাল রিজিক আহার করল, তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খোলা থাকবে, সে যেখান দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।’ 

হারাম উপায়ে উপার্জিত খাবার খেয়ে ইবাদত করলে তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। 

রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘ওই দেহ জান্নাতে যাবে না, যা হারাম খাবার থেকে উৎপন্ন। জাহান্নামই এর উপযোগী স্থান।