বৈধ হজ পারমিট ছাড়া হজ পালন বা পালনের চেষ্টা করলে ভয়াবহ আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে বড় অংকের জরিমানা থেকে শুরু করে সৌদি আরব থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ১০ বছরের জন্য দেশটিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা জারি করেছে।
সৌদি সরকারের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া হজের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই জরিমানার পাশাপাশি সরাসরি নিজ দেশে ফেরত (বহিষ্কার) পাঠানো হবে এবং পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত তার জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু অবৈধভাবে হজ পালনকারীই নয়, যারা এ কাজে সহায়তা করবেন তারাও শাস্তির আওতায় আসবেন। অবৈধ হাজিদের পরিবহন, আবাসন বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এমনকি এই অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। এই বিধান ট্রাভেল এজেন্সি, বাসা মালিক এবং যানবাহনের মালিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল অনুমোদিত হজ পারমিটধারীরাই মক্কা ও নির্ধারিত পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন। জিলকদ মাসের প্রথম দিন থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ভিজিট ভিসাধারীরা বৈধ হজ অনুমোদন ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করতে বা অবস্থান করতে পারবেন না।
সৌদি আরবে আইন লঙ্ঘনের কোনো তথ্য থাকলে তা নির্দিষ্ট জরুরি নম্বরে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। রিয়াদ বা জেদ্দার মতো প্রধান অঞ্চলগুলোতে ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানো যাবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে দেশজুড়ে অভিযান শুরু করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া হজ পারমিট প্রচারের অভিযোগে মক্কায় একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তাই সকল বাংলাদেশি নাগরিককে দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারি নিয়ম মেনে হজ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।