জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব ও ১১টি বিশেষ আমল

হিজরি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ। এটি কেবল হজের মাস নয়, বরং ত্যাগের মহিমায় প্রভুর সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সময়। পবিত্র রমজানকে আমরা ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে জানলেও, ইসলামের দৃষ্টিতে জিলহজের প্রথম ১০ দিনও ইবাদতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বসন্তকাল। এই দিনগুলোর ইবাদত মহান আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব ও ফজিলত
কুরআন মাজিদে সুরা ফজরের ২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ‘১০ রাতের’ শপথ করেছেন। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই ১০ রাত হলো জিলহজের প্রথম ১০ রাত। কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বোঝাতে স্বয়ং আল্লাহ যখন শপথ করেন, তখন তার মাহাত্ম্য সহজেই অনুমেয়। এছাড়া হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-এর মতে, এই দশকের বিশেষত্বের কারণ হলো এখানে ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের (ইমান, সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ) এক অনন্য সমন্বয় ঘটে, যা বছরের অন্য কোনো সময়ে সম্ভব হয় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে যত প্রিয়, আর কোনো দিনের আমল তত প্রিয় নয়।’ এমনকি সাহাবিরা যখন জিহাদের সাথে এর তুলনা জানতে চাইলেন, নবীজি (সা.) জানালেন যে সাধারণ জিহাদও এর সমতুল্য নয়।

এই দশকের বিশেষ ১১টি আমল
১. অধিক জিকির: সুরা হজের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা।
২. নেক আমলের যত্ন: এই সময়ে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি নফল ইবাদত ও ভালো কাজ করা।
৩. পাপ পরিহার: সম্মানিত মাস হিসেবে এই সময়ে সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
৪. হজ পালন: সামর্থ্যবানদের জন্য হজ করা, যার প্রতিদান কেবলই জান্নাত।
৫. কোরবানি: সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করা।
৬. নখ-চুল না কাটা: যারা কোরবানি করবেন, তারা জিলহজ মাস শুরুর পর থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত নখ, চুল বা লোম কাটা থেকে বিরত থাকা।
৭. তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল: বেশি বেশি ‘আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা।
৮. তাকবিরে তাশরিক: ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা।
৯. প্রথম ৯ দিন রোজা: সম্ভব হলে জিলহজের প্রথম নয় দিনই সিয়াম পালন করা।
১০. আরাফার রোজা: ৯ জিলহজ আরাফার দিনে রোজা রাখা, যা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়।
১১. ঈদের সুন্নাহ পালন: ঈদের দিনের নির্ধারিত সুন্নাহসমূহ যথাযথভাবে পালন করা।

জিলহজের এই পুণ্যময় দিনগুলো আমাদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। এই সময়ে প্রতিটি আমল আমাদের আখেরাতের পাথেয় হিসেবে গণ্য হবে।