বর্তমান যুদ্ধ কি কেয়ামতের লক্ষণ, কুরআন ও হাদিস যা বলে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫২ এএম

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জনমনে একটি প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে এসবই কি কেয়ামতের পূর্বলক্ষণ? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আলোচনায় এই শঙ্কা এখন তুঙ্গে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে বর্তমান পরিস্থিতি এবং কেয়ামতের আলামতগুলো নিয়ে কী বলছেন ইসলামি চিন্তাবিদগণ, তা নিয়ে এই বিশেষ প্রতিবেদন।

পবিত্র কুরআন আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই ঘোষণা করেছে যে, কেয়ামত নিকটবর্তী। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘কেয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।’ (সুরা আল-ক্বামার : ০১)।

সিলেটের দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনই ছিল কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার একটি বড় নিদর্শন। তবে কেয়ামত নিকটবর্তী বলার পর আরও কত বছর বাকি আছে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। যুদ্ধ বা দুর্যোগ দেখলেই কেয়ামতের দিনক্ষণ গণনা করা ঠিক নয়, বরং এ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বড় ও ছোট আলামত

জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর এক আলোচনায় কেয়ামতের আলামতকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

ছোট আলামত: এগুলো অনেক আগে থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। যেমন সময়ের বরকত চলে যাওয়া, আমানতদারিতা কমে যাওয়া, অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা আসা এবং অনৈতিকতা বৃদ্ধি পাওয়া। অনেক স্কলারের মতে, ছোট আলামত প্রায় ১৩১টি, যার অধিকাংশই বর্তমানে দৃশ্যমান।

বড় আলামত: এগুলো কেয়ামতের একেবারে আগমুহূর্তে প্রকাশিত হবে। যেমন দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, ইমাম মাহদীর আগমন, ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া। হাদিস অনুযায়ী এই ১০টি বড় আলামত এখনও প্রকাশিত হয়নি।

মুমিনের প্রকৃত প্রস্তুতি কী হওয়া উচিত?

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, কেয়ামত কবে হবে সেই দিনক্ষণ খোঁজা মুমিনের কাজ নয়। একবার এক সাহাবি নবীজি (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন কেয়ামত কবে হবে? উত্তরে নবীজি উল্টো প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কেয়ামতের জন্য তোমার প্রস্তুতি কী?’।

মুফতি হোসাইনী আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের মৃত্যু মানেই তার ব্যক্তিগত কেয়ামত শুরু হয়ে যাওয়া।’ বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী নশ্বর। তাই অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সুন্নাহর পথে চলে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ইসলামে যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই, বরং মানবসেবা ও ঈমানি দৃঢ়তা বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।

NB
আরও পড়ুন