কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও ফজিলত

প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর জিকির ও স্মরণ’ জরুরি। কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতও বটে। এ ছাড়া কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ। ‘বিসমিল্লাহ’র মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে সুন্দরভাবে কাজ শেষ হয় এবং আমলনামায় সওয়াব লেখা হয়।

আবু দাউদে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কাজ বিসমিল্লাহ ছাড়া আরম্ভ করা হয়, তাতে কোনো বরকত থাকে না।’ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের সঙ্গে আল্লাহর নামের সম্পর্ক রয়েছে। আর কোরআন তিলাওয়াতের সময় আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম এবং বিসমিল্লাহ দুটোই পাঠ করা সুন্নত। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর সরল বাংলা অর্থ, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহতায়ালার নামে শুরু করছি। পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবা ছাড়া সব সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লিপিবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া হজরত নুহ (আ.)–কে জাহাজে আরোহণের আদেশ দিয়ে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহণ করো আল্লাহর নামে। এর চলা ও থামার নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৪১)।

আবু হুরায়রা (রা.)–এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক কথা বা কাজ যা আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা হয়, তা লেজবিহীন বা অসম্পূর্ণ (বরকতশূন্য)।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১৪/৩২৯)

বিসমিল্লাহ এর ফজিলত: আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। আল্লাহর নামের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করলে, তিনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন। যেকোনো কাজ বা কিছু শুরু করার আগে তাই পড়তে হবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’, অর্থ পরম করুণাময়, পরম দয়াময় আল্লাহর নামে।

আবু দাউদে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কাজ বিসমিল্লাহ ছাড়া আরম্ভ করা হয়, তাতে কোনো বরকত থাকে না।’

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বাক্যটি পবিত্র কোরআনের সুরা নামলের ৩০ নম্বর আয়াতের অংশ। কোরআনে ইঙ্গিত রয়েছে যে, প্রতিটি কাজ বিসমিল্লাহ বলে আরম্ভ করতে হবে।

বিসমিল্লাহ নিয়ে হাদিস: আবু দাউদে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কাজ বিসমিল্লাহ ছাড়া আরম্ভ করা হয়, তাতে কোনো বরকত থাকে না।’ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের সঙ্গে আল্লাহর নামের সম্পর্ক রয়েছে। কোরআন তিলাওয়াত ছাড়া অন্য কাজে বিসমিল্লাহ পাঠ সুন্নত।

আর কোরআন তিলাওয়াতের সময় আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম এবং বিসমিল্লাহ দুটোই পাঠ করা সুন্নত। বিসমিল্লাহ দুটি সুরার মাঝখানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আয়াত, যা প্রতিটি সুরার প্রথমে লেখা হয় এবং দুটি সুরার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা সুন্নত। অনেকে বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ৭৮৬ লিখে থাকেন, কিন্তু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখাই উত্তম।

চিঠিতে বা বাণীতে প্রথম বিসমিল্লাহ লিখেছেন হজরত সুলাইমান (আ.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম জীবনে ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লিখতেন, এরপর কিছুদিন ‘বিসমিল্লাহির রহমান’ লিখেছেন। সুরা নামলে বিসমিল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাক্য নাজিল হওয়ার পর থেকে তিনি সেটা লেখারই প্রচলন করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সমকালীন রাজা-বাদশাহদের কাছে বিসমিল্লাহ লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রেও পুরো বিসমিল্লাহ লিখতে আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাফেরদের আপত্তির কারণে পরবর্তীতে ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা’ লেখা হয়। (তাফসিরে রূহুল মাআনি; আহকামুল কোরআন লিল জাস্‌সাস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা. ৮) ঐতিহাসিক মদিনার সনদেও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুরাটা লেখা হয়েছিল। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা. ২২৩)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে সব শুরু করা সুন্নত। কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন, এটা মুস্তাহাব। ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হলো, প্রত্যেক ভালো কাজ ‘বিসমিল্লাহ’বলে শুরু করা উচিত।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘যেসব প্রাণীর ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তোমরা সেগুলো ভক্ষণ করো না। কারণ তা গোনাহ।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১২১)

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ খাওয়া শুরু করে, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। আর যদি সে (খাওয়ার শুরুতে) বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে সে যেন বলে, বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩,৭৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৫,১০৬)