ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—মুসলিম, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুকিম হওয়া, পাশাপাশি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া।
তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বিত্তশালী হলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় না। কারণ শরিয়তে কোরবানি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপরই আবশ্যক করা হয়েছে।
তবে কোনো অভিভাবক চাইলে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে নফল হিসেবে কোরবানি করতে পারেন। এতে সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু সন্তানের সম্পদ থেকে কোরবানির পশু কেনা বা কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নাবালেগের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, যদিও সে ধনী হয়। কারণ কোরবানি একটি ইবাদত, আর ইবাদত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে নফল কোরবানি করতে পারবে। বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬
মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি। সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো। নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ। (সুরা কাওসার: ১-৩)
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার কোরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ইদগাহে না আসে। (সুনানে ইবনে মাজা: ৩১২৩)
ওজন মেপে কোরবানির পশু কেনা জায়েজ?
জবাইয়ের সময় পশুর মাথা আলাদা হয়ে গেলে কোরবানি হবে?